ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াড বা NEO একটি শিক্ষা আন্দোলন যা পৃথিবী ও পরিবেশ বিজ্ঞানকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসতে চায়। এই অলিম্পিয়াডের লক্ষ্য হল ভবিষ্যত প্রজন্মের বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও অন্যান্য পেশাজীবিদেরকে শেখানো, অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের মাঝে সমন্বয় স্থাপন করা যেন তাদের জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তৈরি হয় একটি ন্যায়ানুগ ও টেকসই বিশ্ব।
অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং সমমানের প্রাইভেট প্রার্থীদের জন্য এই প্রতিযোগিতা। যদি কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে থাকে, তবে সেও অংশ নিতে পারবে।
বাংলাদেশ নদী, পলিমাটি, সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এক অনন্য ব-দ্বীপ। শত শত বছর ধরে এ দেশের উর্বর প্লাবনভূমি, জলাভূমি, বনাঞ্চল ও বিস্তৃত নদী ব্যবস্থা একটি সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র এবং প্রাণবন্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করেছে। কিন্তু আজ এই বদ্বীপের বুকে গভীর ক্ষত স্পষ্ট। দূষিত নদী, বিপন্ন জলাভূমি, ক্রমহ্রাসমান জীববৈচিত্র্য, পানিদূষণ, বর্জ্য অব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন আজ সংকটাপন্ন। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অদূরদর্শী ও ধ্বংসাত্মক উন্নয়ন পরিকল্পনার অনিবার্য পরিণতি। যেকোনো গভীর ক্ষতের মতোই, এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক আন্দোলন।
এই প্রজন্মের তরুণ চিন্তাবিদ ও কারিগররা বাংলাদেশের প্রকৃতি ও উন্নয়নের সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার অসীম সম্ভাবনা ধারণ করে। বৈজ্ঞানিক চিন্তার সঙ্গে পরিবেশগত দায়িত্ববোধের মেলবন্ধনে NEO ২০২৬ এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে, যেখানে শিক্ষা সরাসরি পরিবেশগত পুনর্গঠন ও সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখবে।
NEO ২০২৬-এর এই আন্দোলনে শামিল হও—যেখানে তারুণ্যের কৌতূহল হয়ে ওঠে শক্তি, বিজ্ঞান হয়ে ওঠে দায়িত্ব, আর E-STEM হয়ে ওঠে আমাদের পৃথিবীকে নিরাময়, পুনরুদ্ধার ও নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে আনার শক্তিশালী হাতিয়ার!
এই অনলাইন পর্বে ২০ টি MCQ থাকবে এবং কমপক্ষে ১০টি MCQ এর সঠিক উত্তর দিতে হবে। সঠিক উত্তর স্কোর না করা পর্যন্ত, ২৫ মার্চ এর মধ্যে যতবার প্রয়োজন ততবার পরীক্ষাটি দেয়া যাবে।
এই পর্বের পরীক্ষাটি দেশের সব বিভাগীয় শহরে সশরীরে (অফলাইনে) অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা হবে এবং এতে প্রায় ৩০-৪০ টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) থাকবে।
GDT একটি দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা, যেখানে প্রতিযোগীদের পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে পরিচিত করানো হবে। গ্রিন ডে ট্রেনিং-এ অংশগ্রহণকারীরা NEO অ্যালামনাই হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।
GDT-তে অংশগ্রহণকারীরা E-STEM ব্যবহার করে পরিবেশগত সংকট মোকাবিলার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে দশটি প্রকল্প নির্বাচন করা হবে, যা বাস্তবায়নের জন্য মোট ১,৫০,০০০ টাকা অর্থায়ন এবং মেন্টরশিপ সহায়তা প্রদান করা হবে।
বিভাগীয় পর্বে উত্তীর্ণদের নিয়ে জাতীয় পর্বের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ জাতীয় দল নির্বাচন পরীক্ষার জন্য সেরা ৩০ জন কে বাছাই করা হবে। জাতীয় পর্বের পরীক্ষা প্রতি বিভাগে সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় পর্বের সেরা ৩০ জন এই পরীক্ষায় অংশ নেবে। ইন্টারন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (IESO) অংশগ্রহণের জন্য সেরা ৮-১০ জনকে নিয়ে হবে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প।
এই অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াড (IESO) ২০২৬–এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য টিম বাংলাদেশ ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি টপ ৩০ জন পার্টিসিপ্যান্ট এবং E-STEM প্রকল্পের বিজয়ীদের এই অনুষ্ঠানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
৪ সদস্যের বাংলাদেশ জাতীয় দল ইতালিতে ১৯তম ইন্টারন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (IESO) বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।
পরীক্ষাগুলোতে ভালো করার জন্য প্রয়োজনীয় ধারণা পেতে নিচের লিঙ্কগুলোতে থাকা পাঠ সংগ্রহগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে
অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী বা সমমানের যেকোন শিক্ষার্থী। যদি কেউ এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে থাকে তবে সে-ও NEO-তে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (IESO) অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে, তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী আগের আসরে পদক জয়ী কেউ IESO-তে অংশ নিতে পারবে না। প্রতিযোগীদের বয়স IESO অনুষ্ঠিত হবার বছরের ১ জুলাই-এ অনূর্ধ ১৯ বছরের নিচে হতে হবে।
হ্যাঁ, তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে। রেজিস্ট্রেশনের চলাকালীন সময়, SSC/HSC পরীক্ষার্থী যারা কিনা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়) নথিভুক্ত নয়, তারা যে প্রতিষ্ঠান (স্কুল/কলেজ) থেকে সম্প্রতি পাশ করেছে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করবে। O/A লেভেলের এবং প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামের জায়গায় পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম বা পাঠ্যক্রমের নাম ব্যবহার করতে হবে (যেমন: ব্রিটিশ কাউন্সিল, এডেক্সেল প্রাইভেট ক্যান্ডিডেট, ইত্যাদি)।
প্রাথমিক ও বিভাগীয় পর্বের প্রশ্নগুলি বেশিরভাগই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আর্থ সাইন্স এবং পরিবেশ সম্পৃক্ত বিষয়াবলীর উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। আর জাতীয় পর্বের প্রশ্নগুলো আর্থ সাইন্সের এই মৌলিক বিষয়গুলোকেই আরো গভীরভাবে স্পর্শ করবে। নতুনদের জন্য, “হাই স্কুল আর্থ সায়েন্স” বই, বা NCTB-এর ৯ম – ১০ম শ্রেণীর ভূগোল পাঠ্যবই থেকে প্রাথমিক ধারণা নেয়া যেতে পারে, তবে আমাদের পাঠ তালিকায় আরো বই রয়েছে। যথাযথ প্রস্তুতির জন্য আমাদের সিলেবাস এবং প্রস্তুতির নির্দেশনাটি ভালোভাবে অনুসরণ করতে হবে।
প্রশ্নপত্র বাংলা এবং ইংরেজি দুইটি ভাষাতেই তৈরি করা হয়েছে।
এ বছর বিভাগীয় ও জাতীয় রাউন্ডের পরীক্ষা দেশের সব বিভাগে সরাসরি (in-person) অনুষ্ঠিত হবে। পার্টিসিপ্যান্টরা তাঁদের নিজ নিজ বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পরীক্ষার তারিখ, ভেন্যু এবং অন্যান্য তথ্য সিলেক্টেড পার্টিসিপ্যান্টদের সময়মতো জানানো হবে।
NEO ২০২৬-এর নিবন্ধন ফি ১০০ টাকা। এটি আমাদের NEO টেকসইভাবে পরিচালনা করতে এবং আরও বেশি আর্থ সায়েন্স ও পরিবেশবিদ্যায় উৎসাহী মানুষদের এই যাত্রায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে সাহায্য করবে। আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ।
বিভাগীয় পর্বে উত্তীর্ণদেরকে নিয়ে এটি একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। কর্মশালাটিতে ইন্টারেক্টিভ গেম, পাজল, সিমুলেশন ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে শেখানো হবে। এটি একইসাথে তরুণ প্রজন্মকে তাদের নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবেশগত সমস্যাগুলি মোকাবেলায় কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। কর্মশালাটি বাংলাদেশের ৮টি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত তরুণদের একটি দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক তৈরি করবে।
IESO বা আন্তর্জাতিক আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াড মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বার্ষিক প্রতিযোগিতা। এর বয়স সীমা সর্বোচ্চ ১৯ বছর। মূলত এই প্রতিযোগিতায় ভূতত্ত্ব, আবহাওয়াবিদ্যা, জলবিদ্যা, গ্রহ-নক্ষত্র এবং পরিবেশ বিজ্ঞান সহ আর্থ সায়েন্সের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর উপরে প্রতিযোগীদের দক্ষতা যাচাই করা হয়। IESO পরীক্ষা মূলত হয় ইংরেজিতে। তবে আঞ্চলিক প্রতিনিধিরা প্রতিযোগীদের সুবিধার্থে নিজেদের ভাষায় লিখিত পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট উপকরণ অনুবাদ করতে পারে। NEO এর জাতীয় পর্বে উত্তীর্ণ সেরা প্রতিযোগীদেরকে বাছাই করে তৈরি হয় IESO তে অংশ নেবার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দল।
প্রতিটি বিভাগের শীর্ষস্থান অধিকারীরা GDT-তে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। যারা সফলভাবে GDT সম্পূর্ণ করবে তাদের জন্য রয়েছে পুরষ্কার ও সনদ। পরবর্তীতে জাতীয় পর্বে সেরা ৩০জন বিজয়ীর জন্যে রয়েছে পুরষ্কার ও সনদ।
জাতীয় পর্বের ঠিক পরেই হয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাছাই প্রক্রিয়া। অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে কিছু লিখিত পরীক্ষা এবং কয়েকটি দলীয় মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে এই বাছাই হয়। মূল্যায়নের আগে প্রতিযোগীদের জন্য থাকবে কিছু প্রশিক্ষণ ও পাঠচক্র; যার বেশিরভাগই হবে অনলাইনে।
E-STEM অ্যাকশন প্রজেক্ট NEO-এর একটি নতুন অংশ, যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা E-STEM প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় পরিবেশগত সংকট মোকাবিলার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ১০টি প্রকল্প নির্বাচন করা হবে, যা বাস্তবায়নের জন্য সর্বমোট ১৫০,০০০ টাকা (১০টি প্রকল্প মিলিয়ে) অর্থায়ন এবং মেন্টরশিপ সহায়তা পাবে।
GDT ২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীরা এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভ (BYEI) বাংলাদেশী তারুণ্যের ক্ষমতায়ন ও শিখনের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সচেতনতা, সক্ষমতা এবং অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন প্রজন্মের প্ল্যানেটারি স্টুয়ার্ডরা আরও ন্যায্য এবং টেকসই বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করতে পারবে।
Bangladesh Geological Society
Department of Geology, University of Dhaka
Department of Environmental Science and Management,
Independent University,
Bangladesh